photo

রবিবার, ১৪ মে, ২০১৭

মুক্তাগাছায় চামচার বলয়ে আবৃত নি:স্ব আলম


মনোনেশ দাস : চামচারা তাকে নি:স্ব করে দিয়েছে । তারপর তাদের প্রতি নেই কোন তার অভিযোগ । সেই চামচাদের মুখে তিনি তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মিথ্যে বলতে শুনেছেন । সেই মিথ্যাগুলি তাকে প্রতিনিয়ত পীড়া দিয়ে চলেছে । কন্টক, কখনও বিস্ফোরক, কখনও কাতর। এ কোন আলম ? ঝাঁ চকচকে গাঁড় নীল শার্ট আজ ফেকাশে রঙের হয়ে গেছে । ছিড়ে ফেতফেতা হয়ে গেছে তার পরিহিত লুঙ্গিও । কি ছিল আর কি হয়ে গেলো । যার জীবনযাপনে আ-যৌবন মিশে আছে আধ্যাত্মিকতার প্রতি টান। বয়স তার ষাট পূর্ণ করার পথে, অথচ এক সদা-উৎসাহী সরল ছেলেমানুষি যেন আগাগোড়া খেলা করে বেড়ায় । কখনও কখনও তাই বিপজ্জনক ভাবে অকপট আলম । ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা শহরের নন্দীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এই আলমের পিতা ছিলেন, পদস্থ এক সরকারি কর্মকর্তা । পরম্পরাগতভাবেই তারা ছিলেন, সম্ভ্রান্ত ও ধনী পরিবার । পিতার মৃত্যুকালে আলমের জন্য রেখে যান অগাধ ধন- সম্পদ । জমি-জমা, নগদ অর্থে আজ যার মূল্যমাণ ২০ কোটি টাকারও অধিক । বিএ পাশের পাঠ চুকিয়ে আলম একদল চামচার ( তোষামোদকারী) বলয়ে আবৃত হয়ে পড়েন । সেই থেকে শুরু হয় চিরকুমার আলমের তাসের ঘরের মত ভাঙন । ছোট বেলা থেকেই আলমের শখ বাই সাইকেল চালানো । এক চামচা সেই সাইকেলের সামনে ঝুড়ি থাকলে ভালো হয় বলে পরামর্শ দেয় । কিছু টাকা দিয়ে আলম তাকে ঝুঁড়ি আনতে বলেন । সাইকেলে ফিটিং করা হলো সেই ঝুঁড়ি । চামচা বললো । ঝুঁড়ির সাইকেল চালালে আপনাকে রাজপুত্রের মত লাগে । এশুনে চামচাকে আলম আগুন্তি টাকা দিয়ে দিলেন । সেই থেকে শুরু হলো আলমের জীবনভাঙনের যাত্রা । চামচারা তাকে পৌরসভার নির্বাচনে কমিশনার প্রার্থী করলেন ।নির্বাচনের মাঝ সময়ে আলম জানতে চাইলেন, আমার ভোট কেমন ? চামচারা জানিয়ে দিলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে আপনার ভোট শতভাগ । ভোট আর ভোট ।সবাই আপনাকে দেবে । যারপরনাই খুঁশি হয়ে নিজের জমি বিক্রি করে আলম চামচাদের কাড়ি কাড়ি টাকা দিলেন । এরই মাঝে এক চামচার নিকট সেই টাকা থেকে ৭০ টাকা অপর এক চামচাকে দেয়ার জন্য ধার নিলেন । এ টাকার বিষয়টি হঠাৎই ভুলে যান আলম । কয়েক বছর পর চামচা ৭০ টাকার সুদে আসলে ১২ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে বসলেন । আলম নিজের জমি বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করলেন । ২শ’ শতাংশ জমির চারপাশে পাকা দেয়ালে আবৃত আলমের বাড়ি । চামচাদের পরামর্শে দেয়ালে স্থাপন করেন, দামি ও অধিক আলোর বাতি । মাঝখানে ছনের ঘরে তার থাকার ঘরে ছিলো কুপি বাতি । চামচারা তাকে বুঝিয়েছে, ঘরে বিদ্যুতের বাতি থাকলে শর্টসার্কিটের ঝুঁকি থাকে । চিরকুমার আলমের টাকায় চামচারা হোটেলে রুটি-মাংস আর কাবাব খেতো । আর আলমকে খাওয়ানোর জন্য তার ঘরে বৃদ্ধা এক ঝিঁ (কাজের মহিলা) জোগাড় করে দেন ।চামচারা ষড়যন্ত্র করে সেই ঝিঁএর সাথে মিথ্যা বিয়ের নাটক মঞ্চস্থ করে । একপর্যায়ে চামচারা সামাজিক বিচার বসায় । লোক লজ্জ্বার ভয়ে ঐ বাড়ি বিক্রি করে চামচাদের মাধ্যমে বিচারের নামে ঐ প্রহসন থেকে পরিত্রাণ পায় । এভাবে জমি- জমা, টাকা পয়সা শেষ হতে থাকে আলমের । এরই মাঝে মারা যান এক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক তার সহোদর বোন । বোনের ওয়ারিশ হবেন ভাই । চামচারা তাকে বোঝায় আপনিই ওয়ারিশ । পেনশনসহ বোনের সম্পত্তি আপনি ওয়ারিশ হতে কিছু খরচ করতে হবে । চামচাদের পরামর্শে সেখানেও টাকা ঢালেন আলম ।সর্বশেষ আলম সেখান থেকে কিছুই পাননি । চামচারা তার সকল টাকাই আত্নসাত করেন । এবার আলমের অবশিষ্ট কিছু রয়ে গেছে । যা দিয়ে ভালোই চলে যাবে গোটা জীবন । বসে নেই চামচাররা । তাকে বোঝানো হল, আঙুলের আংটিতে পাথর ব্যবহার করেন । ভাগ্য খুলে যাবে । আঙুল ভর্তি করলেন কমপক্ষে ৫০টি আংটিতে।সেই পাথর সরবরাহ করে আলমের অবশিষ্ট সকল কিছুই বাগিয়ে নিলো চামচারা । ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে আলমের । পরিবর্তন বলতে এখন নিজের কিছুই নেই । থাকেন অন্যের বাড়িতে । মাত্র ১০ টাকার জন্য সারাদিন ঘুরে বেড়ার সেই চামচাদের পেছনেই । লোকচক্ষুর ভয়ে চামচারা নিজেদের দোষ আড়াল করতে বলে বেড়ান- উনি হচ্ছেন, আলম পাগলা । এতকিছুর পরও চামচাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ তুলেন না আলম । এপ্রতিবেদককে আলম জানান, আমার কিই বা করার ছিলো ? কিইবা করার আছে ?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন